লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় নিহত অপর ব্যক্তি একজন সিরীয় নাগরিক বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
লেবাননের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম লরিয়েন্ট টুডে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই বাড়িতে শ্রমিক হিসেবে বসবাস করছিলেন কয়েকজন বিদেশি নাগরিক। হামলায় ঘটনাস্থলেই দুই বাংলাদেশি ও এক সিরীয় নাগরিক নিহত হন।
তবে এখন পর্যন্ত নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বিষয়টি যাচাই করছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা আবারও বেড়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট অবস্থান ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত ড্রোন ও বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, হামলার সময় ভবনটিতে সাধারণ শ্রমিকরা অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে।
এদিকে হামলার জবাবে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। ফলে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সীমান্ত পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে এরপরও উভয় পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে লেবাননের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, এসব হামলায় সাধারণ মানুষও প্রাণ হারাচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কাজ চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
প্রবাস থেকে আরো পড়ুন