প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ ১২:৩৬
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ এটিকে “অত্যন্ত সহিংস ও হৃদয়বিদারক পারিবারিক হত্যাকাণ্ড” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের বরাতে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার রাতে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্যাম্পবেলটাউনের রেমন্ড অ্যাভিনিউ এলাকার একটি বাড়ি থেকে ৪৬ বছর বয়সী এক নারী এবং ১২ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনজনের মরদেহ বাড়ির পৃথক কক্ষ থেকে পাওয়া যায় এবং তাদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী এমডি শোমন আহামেদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পরে তিনটি পারিবারিক সহিংসতাজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ বলছে, জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে তিনিই ঘটনাটি জানান।
পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মরোনি বলেন, “ঘটনাস্থলটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। এটি একটি বিশেষভাবে সহিংস অপরাধের দৃশ্য।” তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একাধিক আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিবারের পূর্ণকালীন দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। নিহত দুই শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা ছিল বলেও জানিয়েছে কয়েকটি অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম।
পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি কয়েক মাস ধরে এ ঘটনার পরিকল্পনা করেছিলেন।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে নিরিবিলি জীবনযাপন করত এবং স্থানীয়দের সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশা করত না। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত জামিন আবেদন করেননি। আদালত তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও এ ঘটনাকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও হত্যাকাণ্ড তদন্ত বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রবাস থেকে আরো পড়ুন