প্রবাস

বিমান বাংলাদেশের বিশেষ নির্দেশনা, দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের ভোগান্তি বাড়ছে

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭:৫৮

প্রতীকী ছবি। গ্রাফিক্স: বায়ান্ননিউজ২৪

যুক্তরাজ্যে প্রবেশের নিয়মে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে লন্ডনগামী যাত্রীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের একটি বড় অংশ ভ্রমণের সময় জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।

বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লন্ডনগামী সব যাত্রীকে ভ্রমণের আগে নিজ নিজ পাসপোর্ট ও ভিসা বৈধ এবং হালনাগাদ আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে সর্বশেষ পাসপোর্ট তথ্য ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে আপডেট করা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য হালনাগাদ না থাকলে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় অতিরিক্ত যাচাই বিলম্ব এমনকি ভ্রমণ জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, ইউকে বর্ডার ফোর্সের নতুন নির্দেশনার কারণে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সম্প্রতি ডিজিটাল পদ্ধতি আরও কঠোর করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইভিসা ও ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন ব্যবস্থার পূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর ফলে এয়ারলাইন্সগুলোকে যাত্রী বোর্ডিংয়ের আগেই ডকুমেন্ট যাচাইয়ে কঠোর হতে বলা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকরা। যারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতেন তাদের অনেকেই এখন সীমান্তে প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা সুনির্দিষ্ট এনটাইটেলমেন্ট ডকুমেন্ট দেখাতে হচ্ছে। শুধু বিদেশি পাসপোর্ট বা ভিসা থাকলেই আর আগের মতো সহজে প্রবেশ করা যাচ্ছে না।

লন্ডনে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশি জানিয়েছেন, তারা নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়টি আগে স্পষ্টভাবে না জানায় ভ্রমণের সময় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। কেউ কেউ বিমানে ওঠার আগেই ডকুমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে গেছেন। অনেকে আবার যুক্তরাজ্যে পৌঁছে সীমান্তে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন।

বিমান বাংলাদেশ বলছে, এই পরিস্থিতির দায় এয়ারলাইন্সের নয়। যুক্তরাজ্যের সীমান্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করেই যাত্রীদের আগাম সতর্ক করা হচ্ছে। সংস্থাটি যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, টিকিট কাটার পর নয় বরং ভ্রমণের অনেক আগেই ভিসা পাসপোর্ট এবং ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই ও হালনাগাদ করে নিতে।

ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্য সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন এনেছে। তবে হঠাৎ করে নিয়ম কার্যকর হওয়ায় অভিবাসী কমিউনিটিতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দ্বৈত নাগরিকদের বড় একটি অংশ বিষয়টি পুরোপুরি না জেনে ভ্রমণ করছেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, যেসব যাত্রী দ্বৈত নাগরিকত্ব বহন করেন তারা অবশ্যই ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করবেন। যাদের ব্রিটিশ পাসপোর্ট নবায়নাধীন বা হাতে নেই তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় এনটাইটেলমেন্ট ডকুমেন্ট আগে থেকেই সংগ্রহ করা জরুরি। পাশাপাশি যাদের ইভিসা বা ইটিএ রয়েছে তাদের ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে পাসপোর্ট তথ্য সঠিকভাবে সংযুক্ত আছে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, লন্ডনযাত্রায় যে নতুন সতর্কতা জারি হয়েছে তা নিছক প্রশাসনিক নির্দেশনা নয়। এটি যুক্তরাজ্যের পরিবর্তিত সীমান্ত নীতির সরাসরি প্রতিফলন। সময়মতো প্রস্তুতি না নিলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। এমন বাস্তবতায় সচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতিই হতে পারে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণের একমাত্র উপায়।

বায়ান্ননিউজ২৪/জিআরখান

প্রবাস থেকে আরো পড়ুন