প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০৩:১৯
বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান
সৈকত মাহমুদ: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এর ঐতিহ্যবাহী নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে ২০০৯ সালের পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’, ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ অথবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও শহীদ সেনা পরিবারের সদস্যদের সম্মানে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বিএনপির সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপকমিটি।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম ও পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছিল, যা ছিল একটি আবেগঘন ও স্পর্শকাতর বিষয়। জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণীয় একটি দিবস ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন সুপারিশ বিএনপি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু বিধিমালার সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কমিটিতে সাবেক ও বর্তমান সেনা সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, সেনা সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পে’ ইতোমধ্যে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জনগণের রায়ে সরকার গঠন করতে পারলে এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সেনাবাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি কখনোই সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। একটি শক্তিশালী, পেশাদার ও সম্মানিত সেনাবাহিনীই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রধান ভিত্তি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী **জুবাইদা রহমান**সহ সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য শেষে তারেক রহমান উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং নৈশভোজে অংশ নেন।
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন