প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮:২২
টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিককে দ্বিতীয় দফায় চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশ বিদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রায় শুধু একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয় বরং পুরো বিচারপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
লেবার পার্টি সরাসরি অভিযোগ করেছে যে, টিউলিপ সিদ্দিককে ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দলের এক মুখপাত্র বলেন, অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য কখনোই তাকে জানানো হয়নি। তার আইনজীবীরা একাধিকবার বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়া দেওয়া রায় আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে দলটি।
টিউলিপ সিদ্দিক নিজেও এই বিচারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছড়ানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তার মতে, এটি ন্যায়বিচার নয় বরং একটি সাজানো প্রক্রিয়া।
রাজনৈতিক মহলের বড় একটি অংশ মনে করছে, শেখ হাসিনার ভাগনি হওয়ার কারণেই টিউলিপ সিদ্দিককে আলাদাভাবে টার্গেট করা হয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগের নাম, পরিচয় বা সামান্য সংশ্লিষ্টতা থাকলেই অনেককে মামলা, গ্রেপ্তার ও সাজা দিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। টিউলিপের রায় সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন।
একই সময়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে একাধিক মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব মামলার বেশির ভাগেই আসামিপক্ষের উপস্থিতি ছাড়াই বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে, যা দেশের ভেতর ও বাইরে আইনি বিশেষজ্ঞদের উদ্বিগ্ন করেছে। তারা বলছেন, অনুপস্থিত আসামির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কঠোর সাজা দেওয়া বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই ধরনের বিচারপ্রক্রিয়া বাংলাদেশে একটি ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার হওয়া আইনের শাসনের ধারণাকে দুর্বল করছে এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সমালোচকদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কিন্তু টিউলিপ সিদ্দিকের মামলাসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই প্রতিশ্রুতির বিপরীত চিত্রই তুলে ধরছে। তারা মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা আরও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ
প্রবাস থেকে আরো পড়ুন