অর্থনীতি

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ধস, দুই দিনে কমেছে ভরিতে ৮০ হাজার টাকা

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ ০৩:৫৬

সোনার বার

টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে হঠাৎ বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ভরিতে ৮০ হাজার টাকারও বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণবাজারে এটিকে অন্যতম বড় দরপতন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম নেমে আসে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে। এর আগের দিন এই দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার। আরও এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক দরপতন শুরু হয়। দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি আউন্সে প্রায় ৬৬০ ডলার কমে যাওয়াকে বাজারে বড় ধরনের মূল্য সংশোধন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং ইরান ঘিরে উত্তেজনার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। এর ফলে দাম অল্প সময়ের মধ্যেই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে সেই উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ মুনাফা তুলে নিতে শুরু করায় দরপতন ত্বরান্বিত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে— এমন প্রত্যাশাও স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করছে। এর পাশাপাশি স্বাভাবিক বাজার সংশোধনের প্রভাব মিলিয়ে হঠাৎ বড় পতন দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববাজারের এই ধাক্কার প্রভাব দ্রুতই দেশের বাজারে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি এক ধাপে ভরিপ্রতি সোনার দাম সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নির্ধারণ করে, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে ২৪ ঘণ্টা না যেতেই আবার বড় কাটছাঁটের ঘোষণা আসে।

শুক্রবার সকালে বাজুস ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমায়। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম নেমে আসে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায়, যা সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রুপার বাজারেও পরিবর্তন এসেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দামে আরও ওঠানামা দেখা যেতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতাদের সতর্ক থেকে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

বায়ান্ননিউজ২৪/আইরিন

অর্থনীতি থেকে আরো পড়ুন