অর্থনীতি

ঝুঁকিতে ১৭.৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ ২১:৫৩

সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর কারণে প্রায় ১৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বাজার ও পণ্য বহুমুখীকরণের নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশ যে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে, তা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে রপ্তানি খাতে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি জানান, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া এবং আরসিইপি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা সেপা স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং ডলারের চাপের কারণে দেশের আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক ধীর হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরে ৭৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের আমদানির বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। একক খাতের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল, হিমায়িত খাদ্য ও প্লাস্টিক শিল্পকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করছে।

রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে আংশিক রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাজার ও নতুন পণ্য খুঁজে বের করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানিকারকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার স্বল্পসুদে প্রাক-জাহাজীকরণ ঋণ তহবিল এবং রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ সুবিধা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘কাগজ ও প্যাকেজিং’ খাতকে ২০২৬ সালের ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভুটানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় উভয় দেশের বেশ কয়েকটি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। একই ধরনের চুক্তি নিয়ে নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আলোচনা এগিয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে সেপা চুক্তির প্রস্তুতিও চলছে।

তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি এখনও সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে বলে সংসদকে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

অর্থনীতি থেকে আরো পড়ুন