প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ২৩:০৭
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, সহাবস্থান, শান্তি ও গণতন্ত্রের রাজনীতি চায় বিএনপি। আওয়ামী লীগের নিরপরাধ ও সাধারণ সমর্থকদের কোনো ভয় বা দুশ্চিন্তার কারণ নেই। বিএনপি তাদের পাশে থাকবে এবং অন্যায়ের বিচার হবে কেবল প্রকৃত দোষীদের ক্ষেত্রেই।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী বাজার, ছেফড়ীকুড়া, ফুটানি বাজার, তেঁতুলিয়া হরিবাসর, ভাউলারহাটসহ মোট ১২টি স্থানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর ধরে এ দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রকৃত অর্থে ভোটের মালিক ছিল না জনগণ। সব ভোট নিয়ে যেত শেখ হাসিনা ও তার প্রশাসনের লোকেরা। দীর্ঘদিন পর এবার একটি সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এবার যার ভোট, সে নিজেই তা দেবে এবং যাকে খুশি তাকেই ভোট দিতে পারবে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। বিএনপি আপনাদের পাশে আছে। রাজনৈতিক কারণে যারা হয়রানির শিকার হয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
নিজের রাজনৈতিক জীবন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। কাজ করে দেওয়ার নামে এক কাপ চাও খাইনি। রাজনীতি করে সম্পদ গড়িনি, বরং নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি।
এটি তার জীবনের শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার অনেক কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে। সেগুলো শেষ করার জন্য ভোটারদের কাছে শেষবারের মতো সুযোগ চাইছি।
২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় পুলিশ ও সরকার সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। নির্বাচনের দিন পুলিশের গুলিতে প্রিজাইডিং অফিসার নিহত হলেও সেই হত্যার দায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চাপানো হয়। ওইসব মামলায় বহু নেতাকর্মীকে দীর্ঘদিন পালিয়ে বেড়াতে হয়েছিল। সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর সেসব মামলা থেকে মানুষ মুক্তি পায়।
আগামী নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
জামায়াত প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে জামায়াত নেতারাও মন্ত্রী ছিলেন। সে সময় যদি কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকে, তার দায় তাদেরও এড়ানোর সুযোগ নেই।
বিগত সময়ে যাদের নামে মামলা হয়েছিল, সবাইকে ভাতা ও চাকরি দিতে হবে, স্থানীয় নেতাকর্মীদের এমন দাবির জবাবে তিনি বলেন, এটি বাস্তবসম্মত নয়। কারণ সারা দেশে মামলার সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। তবে যোগ্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি দীর্ঘ ৪০ বছরের পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই দল গড়ে তুলেছিলেন। তাকে হত্যার পর বেগম খালেদা জিয়া দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শেখ হাসিনা স্বৈরাচারীভাবে দেশ পরিচালনা করে বহু অন্যায়-জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি।
বায়ান্ননিউজ২৪/সৈকত
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন