প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩:৩৬
গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলে তা কার্যকর হয় না, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটে ‘দ্য প্ল্যান ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত শোনার পর ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র ছাড়া নাগরিক সেবা কার্যকরভাবে পৌঁছানো সম্ভব নয়। গণতন্ত্র হাজার বছরের চর্চার ফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই গণতান্ত্রিক অনুশীলন বাস্তবভাবে কার্যকর রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোগীর তুলনায় সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকের সংখ্যা অত্যন্ত কম। অর্থনৈতিক অক্ষমতার কারণে বহু মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে সীমিত সম্পদের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি হাসপাতাল নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ, বাজেট ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু রোগীরা সেই সময় অপেক্ষা করতে পারে না। তাই দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল করা বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে হেলথ কেয়ার ওয়ার্কারদের মৌলিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে সাধারণ রোগের প্রাথমিক সেবা ঘরে ঘরেই দেওয়া সম্ভব হবে এবং হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বিদেশে যান, যাদের বড় অংশই অদক্ষ। ফলে তারা প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক অবদান রাখতে পারেন না। বিএনপি কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক করার পাশাপাশি ভাষা শিক্ষা যুক্ত করতে চায়, যাতে তরুণরা জাপান, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
নারী ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সময় মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ চালুর ফলে নারী শিক্ষায় বড় অগ্রগতি এসেছে। বিএনপি সরকারের পরিকল্পনায় পরিবারের প্রধান নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে মাসিক দুই হাজার থেকে দুই হাজার পাঁচশ টাকা নগদ সহায়তা বা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।
তারেক রহমান বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নারীরা অর্থ পেলে তা সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের স্বাস্থ্য ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় করেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হয় এবং নারীর সামাজিক মর্যাদা বাড়ে।
বায়ান্ননিউজ২৪/সৈকত
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন