প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ ০০:০৯
বিতর্কিত নিয়োগ লাভ করা ওমর গণি উরফে ওমর হাদি
যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে ওমর বিন হাদির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বড় ভাই হওয়াই কি এই নিয়োগের মূল কারণ, এমন প্রশ্ন এখন খোদ প্রবাসী কূটনৈতিক মহলেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই নিয়োগ কার্যকর করে। অথচ সাধারণ নিয়মে এই ধরনের কূটনৈতিক পদে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ গেজেটেড কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও সে প্রক্রিয়া পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগের সময় ও প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক সপ্তাহ আগেই ওমর বিন হাদির ছোট ভাই শহীদ শরিফ ওসমান হাদি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। ঘটনার পর থেকেই সরকারপক্ষের বিভিন্ন মহলে হাদির পরিবারকে ঘিরে বিশেষ সহানুভূতি ও রাজনৈতিক গুরুত্ব লক্ষ্য করা যায়। সেই ধারাবাহিকতায় হঠাৎ করে বড় ভাইকে বিদেশি মিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রবাসী কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো পরিবারের একজন সদস্য নিহত হলেই তার স্বজনকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে নিয়োগ দেওয়া হলে তা মানবিক সহানুভূতি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার চরম অবমূল্যায়ন। এতে প্রশাসনে বৈষম্য আরও প্রকট হয় এবং মেধা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অপেক্ষমাণ শত শত কর্মকর্তা বঞ্চিত হন।
আরও বিতর্ক তৈরি করেছে এই বিষয়টি যে, কোটা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারই এখন নতুন করে বিশেষ কোটা ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দিচ্ছে। আন্দোলনের সময় যে সরকার মেধাভিত্তিক ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই নিয়োগ সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
লন্ডনে অবস্থানরত একাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মকর্তা বায়ান্ননিউজ২৪-কে জানান, “এটা শুধু একটি নিয়োগ নয়, এটি একটি নজির। আজ নিহত নেতার ভাই, কাল অন্য কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অন্য কেউ . . .এই ধারাবাহিকতা রাষ্ট্রকে দুর্বল করে।”
সমালোচকদের মতে, নিহত হওয়ার ঘটনায় বিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু তার পরিবর্তে পরিবারকে প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক পদ দিয়ে ‘সমন্বয়’ করার চেষ্টা রাষ্ট্রীয় নৈতিকতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
এই নিয়োগ অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ তদন্ত ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না করলে সরকারের বৈষম্যবিরোধী অবস্থান পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে এমন আশঙ্কাই এখন জোরালো হচ্ছে।
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন