প্রবাস

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উদ্বেগ, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারকে চিঠি ব্যারোনেস ভার্মার

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩:৫০

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি নিয়ে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে। এবার বিষয়টি সরাসরি যুক্তরাজ্যের হাউজ অফ লর্ডস পর্যন্ত গড়িয়েছে।

 

ব্রিটিশ হাউজ অফ লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস ভার্মা অব লেস্টার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

চিঠিতে ব্যারোনেস ভার্মা উল্লেখ করেন, তিনি আগেও এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছেন এবং লর্ডস চেম্বারেও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাননি। এর মধ্যেই বাংলাদেশে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চিঠিতে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিন্দু যুবকদের ওপর হামলা, পিটিয়ে হত্যা, বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ উঠে এসেছে। বহু ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

 

ব্যারোনেস ভার্মা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছেও তিনি লিখেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা স্পষ্ট নিন্দা দেখা যায়নি। এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও বিরোধী রাজনৈতিক মতের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন সহযোগী হওয়ায় ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে শক্ত অবস্থান প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের সময় যুক্তরাজ্যের পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এটিকে তিনি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

 

চিঠির শেষাংশে ব্যারোনেস ভার্মা বলেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাগরিক বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তারা ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে নৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে শক্ত প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করছেন।

 

এই চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/২৪/এডিটর ইন চীফ 

প্রবাস থেকে আরো পড়ুন