রাজনীতি

বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে আট দলের সঙ্গে নির্বাচন করব : নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ০০:৩৩

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে এবং বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে জামায়াতসহ সমমনা আট দলের সঙ্গে একত্রে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।

রোববার ২৮ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রথম থেকেই আসন্ন নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা চলছিল। সে অনুযায়ী সারা দেশ থেকে মনোনয়নও আহ্বান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও দুটি দলের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা হয় এবং সংস্কারের প্রশ্নে তিন দল মিলে একত্রে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাত এবং প্রকাশ্যে গুলি করার ঘটনার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন এসেছে। এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে আধিপত্যবাদী আগ্রাসী শক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং তারা নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রজন্মকে নিঃশেষ করে দিতে চক্রান্ত চলছে। যারা এই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, দেশের তরুণ সমাজ, নাগরিক, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারাই এখন প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা, প্রতিযোগিতামূলক রাখা এবং গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অগ্রযাত্রাকে রক্ষা করার জন্য বৃহত্তর ঐক্য অপরিহার্য। সেই প্রয়োজন থেকেই জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা আট দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং একটি নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে।

নাহিদ ইসলাম জানান, এটি একটি নির্বাচনী সমঝোতা জোট। একদিকে নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়া, অন্যদিকে সংস্কার, বিচার, দুর্নীতিবিরোধী ও আধিপত্যবাদবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়ন এই জোটের মূল লক্ষ্য। বর্তমান সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করা এবং জুলাই প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই এই ঐক্যের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, আগামীকাল চূড়ান্তভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। সমঝোতার আওতায় যেসব প্রার্থী থাকবেন, তারাই মনোনয়ন ফরম জমা দেবেন। সারা দেশে একত্রে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে। যেখানে এনসিপির প্রার্থী থাকবে না, সেখানে জোটভুক্ত অন্য প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন