আজ বড়দিন। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে আনন্দঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন শুধু একটি ধর্মীয় স্মৃতিচারণ নয়, এটি মানবজাতির জন্য প্রেম, ক্ষমা, ত্যাগ ও সহমর্মিতার এক চিরন্তন বার্তা।
বাংলাদেশের মতো বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশে বড়দিন কেবল খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উৎসব নয়। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। এ দেশেই যুগ যুগ ধরে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান একসঙ্গে বসবাস করছে। একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানানোই আমাদের সামাজিক শক্তি।
ইউকেভিত্তিক বাংলাদেশী প্রবাসী সমাজেও বড়দিন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা, দূরত্ব ও একাকীত্বের মাঝেও এই দিনটি পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের কাছে টেনে আনে। ধর্ম নির্বিশেষে সবাই একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়, সৌহার্দ্য ভাগাভাগি করে নেয়। এই চর্চাই একটি বহুসাংস্কৃতিক সমাজকে সুদৃঢ় করে।
বর্তমান বিশ্ব নানা সংকটে জর্জরিত। যুদ্ধ, সহিংসতা, ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি মানুষের মৌলিক মানবিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। ঠিক এই সময় বড়দিন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় শান্তির গুরুত্ব। অন্যের কষ্ট বোঝা, দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা বেছে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
বাংলাদেশী গণমাধ্যম হিসেবে বায়ান্ন নিউজ ২৪ বিশ্বাস করে, উৎসবের প্রকৃত অর্থ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা জোগায়। বড়দিন আমাদের শেখায় ভিন্নতার মাঝেও ঐক্য সম্ভব, বিশ্বাসের পার্থক্যের মাঝেও মানবতা এক।
এই দিনে আমরা কামনা করি, বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার পাক। প্রবাসে কিংবা মাতৃভূমিতে, সকলের জীবনে বড়দিনের আলো ছড়িয়ে দিক সহমর্মিতা ও আশার বার্তা।
বড়দিনের শুভেচ্ছা।
সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন