প্রবাস

বাংলাদেশিসহ ৭৮ হাজার ব্রিটিশ ভিসা বাতিলের দাবি ভিত্তিহীন

ভুল আইইএলটিএস পরিসংখ্যান প্রকাশে বিভ্রান্তি, সংশোধন চেয়েছে কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৫০

ছবি : প্রতীকী

বাংলাদেশিসহ প্রায় ৭৮ হাজার ব্রিটিশ ভিসা বাতিল হতে পারে এমন দাবি করে যুক্তরাজ্যের একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষা সংস্থা আইইএলটিএস। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিবেদনে উদ্ধৃত পরিসংখ্যানের সঙ্গে ভিসা বাতিলের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ সম্প্রতি আইইএলটিএস পরীক্ষায় একটি কারিগরি ত্রুটির কথা উল্লেখ করে জানায়, প্রায় ৭৮ হাজার পরীক্ষার্থীর ফলাফলে ভুল ধরা পড়েছে। তবে ওই প্রতিবেদনে কোথাও বলা হয়নি যে এই সংখ্যক ব্যক্তির ভিসা বাতিল হয়েছে বা বাতিল করা হবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপিত হলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের প্রকাশনা ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক ড. অ্যাঞ্জেল গুরিয়া কুইন্টানা এক বিবৃতিতে বলেন,

“৭৮ হাজার ভিসা বাতিলের দাবি সম্পূর্ণ ভুল। এটি আইইএলটিএস পরীক্ষার ফল সংশোধনের একটি সীমিত প্রক্রিয়ার সঙ্গে ভুলভাবে যুক্ত করা হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে দ্রুত সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছি।”

আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ জানায়, পরীক্ষার একটি নির্দিষ্ট সময়কালে কিছু ফলাফলে স্কোরিং সংক্রান্ত অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ফল সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে হোম অফিসের কোনো গণভিত্তিক ভিসা বাতিল সিদ্ধান্ত জড়িত নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৪ সালে ইটিএস টোইক পরীক্ষাকে ঘিরে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনার কারণে অতীতে হাজার হাজার অভিবাসীর ভিসা বাতিল হয়েছিল। সেই ঘটনার স্মৃতি থেকেই বর্তমান ভুল তথ্য সহজে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আইইএলটিএস পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন বিধি অনুযায়ী, ভিসা আবেদনে প্রতারণা প্রমাণিত হলে ভিসা বাতিলসহ দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। তবে আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আলোচিত ৭৮ হাজার পরীক্ষার্থীর বিষয়টি ভিসা বাতিল নয়, বরং সীমিত পরিসরে পরীক্ষার ফল সংশোধনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

ভুল প্রতিবেদনের ফলে যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসকারী বহু শিক্ষার্থী ও অভিবাসীর মধ্যে অযথা উদ্বেগ তৈরি হয়। এ প্রেক্ষাপটে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি স্পষ্ট করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

প্রবাস থেকে আরো পড়ুন