প্রবাস

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে দিতে হবে পাঁচ বছরের সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:১২

ছবি : প্রতীকী

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের শর্ত হিসেবে পাঁচ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া ইতিহাস জমা দিতে হতে পারে বিদেশি পর্যটকদের। দেশটির কর্মকর্তাদের প্রকাশিত এক নতুন প্রস্তাবনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ছাড়াই ৯০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারে, এমন কয়েক ডজন দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ প্রায় ৪০ দেশের নাগরিকরা এই নতুন শর্তের আওতায় পড়বেন। তবে এর জন্য ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইস্টা) ফরম পূরণ করতে হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ইস্টা আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া হিস্ট্রি জমা দিতে হবে। তবে কোন নির্দিষ্ট তথ্য দরকার হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নতুন এই দলিলে আবেদনকারীর গত পাঁচ বছরের টেলিফোন নম্বর ও ১০ বছরের ই-মেইল ঠিকানা এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে সীমান্ত কঠোর করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই পরিকল্পনা সম্ভাব্য দর্শনার্থীদের জন্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে অথবা তাদের ডিজিটাল অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটনে বড় ধস নেমে আসতে পারে কিনা, এমন প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। বুধবার ট্রাম্প বলেছেন, আমরা ভালো করছি। আমরা শুধু চাই মানুষ এখানে আসুক এবং নিরাপদে থাকুক। আমরা নিরাপত্তা ও সুরক্ষা চাই। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ভুল ব্যক্তিদের দেশে ঢুকতে দিচ্ছি না।

মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন এবং ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে অলিম্পিক আয়োজনের কারণে আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পর্যটকের বড় ঢল নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) ও এর সহযোগী সংস্থা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এই প্রস্তাবনার দলিল জমা দিয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনুষ্ঠানিক জার্নাল ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়েছে।

গত জানুয়ারিতে ট্রাম্পের ‘যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি সন্ত্রাসী ও অন্যান্য জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার হুমকি থেকে সুরক্ষা’ শীর্ষক এক নির্বাহী আদেশের উল্লেখ করে এই প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

পর্যটকদের জন্য ইস্টা তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত নতুন প্রস্তাবনাটি ৬০ দিনের জন্য জনগণের মতামত আহ্বান করেছে। সিবিপির এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদের জন্য এই বিষয়ে কিছুই পরিবর্তন হয়নি। এটি চূড়ান্ত নিয়ম নয়, কেবল আমেরিকার জনগণকে নিরাপদ রাখতে নতুন নীতি বিকল্প রাখার আলোচনা শুরু করার প্রথম ধাপ।

ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের সোফিয়া কোপ এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এটি বেসামরিক স্বাধীনতার ক্ষতি বাড়িয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে, ইমিগ্রেশন ল প্র্যাকটিস ফ্র্যাগোমেন বলছে, ইস্টা অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে ব্যবহারিক প্রভাব পড়তে পারে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি নাগরিকের শিক্ষার্থী ভিসা বা দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের সময় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, এটি আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করবে এবং এই পরীক্ষা চালানোর জন্য সব সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের গোপনীয়তার সেটিং পাবলিক করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট ভিসা আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সব প্ল্যাটফর্মের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর নাম বা হ্যান্ডেল তালিকাভুক্ত করতে হবে। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনও সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য তালিকাভুক্ত না হলে তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ হতে পারে।

এছাড়া প্রশাসনের সীমান্ত কঠোর করার ব্যাপক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কর্মকর্তারা সম্প্রতি জানিয়েছেন, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ১৯টি দেশকে প্রভাবিত করে এমন বিদ্যমান ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই সম্প্রসারিত হতে পারে। ওয়াশিংটন ডিসিতে দুজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর এ পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়। একজন আফগান ব্যক্তিকে এই ঘটনার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা এর আগে বলেছিলেন, ট্রাম্পের অধীনে চালু হওয়া ভ্রমণ নীতির পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন শিল্পে। বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন পরিষদ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্লেষণ করা ১৮৪টি অর্থনীতির মধ্যে একমাত্র দেশ, যেখানে ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী ব্যয় হ্রাস পেতে পারে। 

ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য নীতিও দেশটিতে পর্যটনকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে হচ্ছে। যেমন ট্রাম্পের শুল্কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে অনেক কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বয়কট করছেন। কানাডিয়ানদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সংখ্যা টানা ১০ মাস ধরে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, অতীতে কানাডিয়ানরা যুক্তরাষ্ট্রের সব আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ ছিল এবং বছরে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করত।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

প্রবাস থেকে আরো পড়ুন