শুধু পিকের দাগ পরিষ্কার করতেই লন্ডনের বেশ কয়েকটি কাউন্সিলের বার্ষিক ব্যয় গিয়ে ঠেকেছে ৩০ হাজার পাউন্ডে
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:৩৩
পানির পিক ফেলে কিভাবে নোংরা করা হয়েছে এটি তার উদাহরণ
লন্ডন ডেস্ক:
লন্ডনের ব্যস্ত সড়ক, ফুটপাত ও বাজারঘাটে নতুন এক ‘সিভিক ক্রাইসিস’ নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে—পানের পিকের লালচে দাগ। দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পানের অভ্যাস যখন ব্রিটিশ রাস্তায় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন কাউন্সিলগুলোকে গুনতে হয় বিপুল অর্থ। শুধু পিকের দাগ পরিষ্কার করতেই লন্ডনের বেশ কয়েকটি কাউন্সিলের বার্ষিক ব্যয় গিয়ে ঠেকেছে ৩০ হাজার পাউন্ডে।
হ্যারো কাউন্সিল পানের পিককে বর্ণনা করেছে “বীভৎস, অস্বাস্থ্যকর এবং পরিষ্কার করতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল।” একই চিত্র দেখা যায় ব্রেন্ট, টাওয়ার হ্যামলেটস ও ওয়েম্বলির রাস্তায়ও। দক্ষিণ এশীয় বসতি বেশি এমন এলাকাগুলোতে পিকের দাগ তুলতে কাউন্সিলগুলোকে নিয়মিত বিশেষ রাসায়নিক, উচ্চচাপ ওয়াশার এবং অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করতে হচ্ছে।
সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কাউন্সিলগুলো এখন জনসমক্ষে পিক ফেলা রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
হ্যারো কাউন্সিল জনসমক্ষে থুতু বা পিক ফেললে ১০০ পাউন্ড জরিমানা নির্ধারণ করেছে।
ব্রেন্ট কাউন্সিলের জরিমানা আগে ৮০ পাউন্ড ছিল; এখন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
আরও কয়েকটি কাউন্সিল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।
কাউন্সিল কর্মকর্তারা বলছেন, সমস্যার মূল পান নয়—সমস্যা পিক যত্রতত্র ফেলার অভ্যাস। এটি শুধু নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি করে না, জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টার, স্কুল ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে পান খাওয়া দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। তামাকবিহীন পান অনেকক্ষেত্রে উপকারী বলেও ধরা হয়। তবে লন্ডনের মতো ব্যস্ত নগরে রাস্তাঘাট বা ভবনের দেয়ালে পিক ফেলা নাগরিক আচরণ হিসেবে মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় সমাজ এটিকে সরাসরি অসভ্যতা ও জনস্বাস্থ্যহানিকর আচরণ বলে মনে করছে।
পানের পিক পরিষ্কার করতে বছরে ৩০ হাজার পাউন্ড ব্যয়—এটি নাগরিকদের ট্যাক্সের টাকার চরম অপচয়। দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির সদস্যরা নিজ দায়িত্বে সচেতন হলে এই ব্যয় ও বিব্রতকর পরিস্থিতি অনেকটাই কমে যাবে—এমনটাই আশা লন্ডনের বিভিন্ন কাউন্সিলের।
বায়ান্ননিউজ২৪/আইরিন
প্রবাস থেকে আরো পড়ুন