প্রবাস

ব্রিটেনে শিশু নির্যাতনের দায়ে বাংলাদেশি ধর্মীয় শিক্ষকের ১২ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ০০:৪৮

অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আশরাফ উদ্দিন

বায়ান্ননিউজ২৪:

ব্রিটেনে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনের দায়ে ৭১ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ধর্মীয় শিক্ষক হাফেজ আশরাফ উদ্দিনকে বারো বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ইপসুইচ ক্রাউন কোর্ট। রায় ঘোষণার সময় বিচারক তাকে সমাজের বিশ্বাস ভঙ্গের জন্য কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করেন এবং তাকে আজীবন সেক্স অফেন্ডার্স রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

 

আশরাফ উদ্দিনের পরিচয়

আশরাফ উদ্দিন জন্মসূত্রে বাংলাদেশি। বর্তমানে তিনি লন্ডনের বার্কিংয়ের উইভেনহো রোডে বসবাস করেন। স্থানীয় কমিউনিটিতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার ওপর পরিবারগুলো গভীর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। আশরাফ উদ্দিন মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার পাশাপাশি কমিউনিটিতে সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তার বয়স, সম্মানজনক পরিচিতি এবং ধর্মীয় অবস্থানকে ঢাল বানিয়ে তিনি দীর্ঘ প্রায় চৌদ্দ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন।

 

অপরাধের সময়কাল এবং ভুক্তভোগীরা

আশরাফ উদ্দিন ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে তার তত্ত্বাবধানে থাকা ছয়জন কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন করতেন। ভুক্তভোগীদের বয়স ছিল সাত থেকে চৌদ্দ বছরের মধ্যে। আদালতে জানানো হয় যে তিনি শিশুদের জামার নিচে হাত দিতেন এবং বিভিন্ন ধরনের অশালীন আচরণ করতেন।

 

অভিযোগ এবং প্রমাণ

তার বিরুদ্ধে মোট সাতজন ভুক্তভোগীর ওপর বাইশটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। চার সপ্তাহব্যাপী বিচার শেষে জুরি বোর্ড তাকে ছয়জন ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে তেরোটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। এর মধ্যে কিছু অভিযোগে একাধিকবার অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে নির্যাতনের পৃথক ঘটনা অন্তত উনত্রিশটি।

 

ঘোষিত শাস্তি এবং নিষেধাজ্ঞা

বারো বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে অনির্দিষ্টকালের সেক্সুয়াল হার্ম প্রিভেনশন অর্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন। এতে নিশ্চিত করা হবে যে ভবিষ্যতে কোনো শিশুর ক্ষতি করতে সে সক্ষম হবেনা।

 

তদন্ত কর্মকর্তার মন্তব্য

সাউথ সেফগার্ডিং ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর ডোনা হপার বলেন, “উদ্দিন কমিউনিটিতে তার স্বন-সম্পর্কিত সম্মান ও বিশ্বাস অপব্যবহার করেছে। ভুক্তভোগীরা সামাজিক লজ্জার কারণে মুখ খুলতে পারেননি, কিন্তু তাদের সাহসিকতার কারণে ন্যায়বিচার সম্ভব হয়েছে।”

 

বাংলাদেশি কমিউনিটির মানহানি

এই ঘটনার পর ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত। একজন ধর্মীয় শিক্ষকের এমন জঘন্য অপরাধ পুরো কমিউনিটির মানহানি করেছে। স্থানীয় বাংলাদেশি সংগঠনগুলো জানিয়েছে যে ব্যক্তির অপরাধের কারণে কমিউনিটিকে সন্দেহের চোখে দেখা হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা শিশু সুরক্ষা ও সচেতনতার ওপর আরও গুরুত্বারোপ করেছেন।

 

সমাজের প্রতি সতর্কবার্তা

মামলার রায় প্রমাণ করেছে যে শিশুদের প্রতি যে কোনো ধরণের নির্যাতন, তা সময়ের ব্যবধান নির্বিশেষে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ভুক্তভোগীদের সাহসই এই বিচার নিশ্চিত করেছে। পরিবার, কমিউনিটি এবং সমাজকে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা অপরিহার্য।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ

প্রবাস থেকে আরো পড়ুন