ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে শৃঙ্খলাভঙ্গ, বৈষম্যমূলক আচরণ, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং ফাইনালের পর মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। পাশাপাশি ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দর্শকসংখ্যা ৫০ শতাংশে সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, ম্যাচের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় ফিফার শৃঙ্খলা বিধির একাধিক ধারা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ওপর এই জরিমানা করা হয়েছে।
তবে জরিমানার পুরো অর্থের সবটাই সরাসরি শাস্তি হিসেবে পরিশোধ করতে হবে না। ফিফার নির্দেশ অনুযায়ী, ৩ লাখ ২১ হাজার ডলারের মধ্যে ১ লাখ ডলার বৈষম্যবিরোধী কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে শাস্তির একটি অংশ, যার মধ্যে একটি ম্যাচের দর্শকসংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত ও ১ লাখ ডলার জরিমানা রয়েছে, নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে স্থগিত রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় শাস্তি এসেছে বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে মাঠের বিশৃঙ্খলার ঘটনায়। গত ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার তদন্ত শেষে কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ফিফা।
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ৯০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। নাহুয়েল মোলিনাকে দেওয়া হয়েছে ৭ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং ৯০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা।
এ ছাড়া থিয়াগো আলমাডাকে ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ৩০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে ৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ এবং ৩০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
স্পেনের খেলোয়াড় পাবলো মার্টিন পায়েজ গাভিরাকেও ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব নিষেধাজ্ঞা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে কার্যকর হবে। অর্থাৎ ক্লাব পর্যায়ের ম্যাচে এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।
বিশ্বকাপের ফাইনালের ঘটনাসহ পুরো টুর্নামেন্টে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মূল্যায়ন করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি।
ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আপিলের সুযোগ রয়েছে। ফলে শাস্তিগুলো চূড়ান্তভাবে একইভাবে বহাল থাকবে কি না, সেটিও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
ক্রীড়াঙ্গন থেকে আরো পড়ুন