ক্রীড়াঙ্গন

বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি উয়েফার ৫৫ দেশের

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ ০২:৫১

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিতর্কিত নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল। বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মালিকানার অংশীদার করার প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সব ধরনের ফিফা প্রতিযোগিতা বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা।

জরুরি বৈঠকে উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও ফিফার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে বিশ্ব ফুটবলের দুই বড় আঞ্চলিক সংস্থার সম্মিলিত বিরোধিতায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

‘বিশ্বকাপ বিক্রির পণ্য নয়’

বৈঠক শেষে উয়েফা এক বিবৃতিতে জানায়, বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয়। এটি বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী, খেলোয়াড় ও জাতীয় দলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং এর মালিকানা কোনোভাবেই বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করা উচিত নয়।

সংস্থাটি আরও অভিযোগ করে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিকল্পনা ফুটবল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অর্থবহ কোনো আলোচনা ছাড়াই গোপনে তৈরি করা হয়েছে, যা দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থার পরিপন্থী।

ফিফার পরিকল্পনা কী?

ফিফা তাদের প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য 'ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (FFE)' নামে একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করেছে। এ প্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু মালিকানা কিনতে পারবেন বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা।

এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে ফিফার ২১১ সদস্য দেশের ভোট প্রয়োজন। প্রস্তাব পাসের জন্য অন্তত ১০৬টি ভোটের সমর্থন লাগবে। সদস্য দেশগুলোকে সমর্থনের বিনিময়ে প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে ফিফা।

ইউরোপ না খেললে বিশ্বকাপের মর্যাদা প্রশ্নে

বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দেশগুলোর আধিপত্য দীর্ঘদিনের। এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের মধ্যে ছয়টিই ছিল ইউরোপের, আর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ইতিহাসের ২৩টি বিশ্বকাপের মধ্যে ১৩টিই জিতেছে ইউরোপীয় দেশগুলো।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলো অংশ না নিলে বিশ্বকাপের ক্রীড়ামূল্য ও বাণিজ্যিক আকর্ষণ বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।

এখন কী হবে?

ফিফার প্রস্তাব এখনও সদস্য দেশগুলোর ভোটে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে উয়েফা ও কনকাকাফের কঠোর অবস্থানের ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় ধরনের সাংগঠনিক সংকট তৈরি হতে পারে।

ক্রীড়াঙ্গন থেকে আরো পড়ুন