প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০৩:০৬
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২৪ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। স্থানীয় সময় ২৫ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ সংখ্যা জানানো হয়।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, আহত সেনাদের মধ্যে ৪১৭ জন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে এবং ২০৭ জন ‘ওভারসিজ অপারেশনস’-এর আওতায় আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পেন্টাগন যুদ্ধের হতাহত সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে পরিবর্তন আনে। আগে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে নিহতের সংখ্যা ১৮ দেখানো হলেও পরে চারজন সেনার নাম সেখান থেকে সরিয়ে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’-এর তালিকায় যুক্ত করা হয়। ফলে ওই অভিযানে নিহতের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৪ জনে।
এই পরিবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেন হজেস বলেন, যুদ্ধের হতাহতসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়।
এদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট দিয়ে হতাহতের তথ্য আলাদা ক্যাটাগরিতে ভাগ করাকে "অযৌক্তিক কৌশল" বলে মন্তব্য করেন।
যদিও পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছেন, ওয়েবসাইটে দেখা দেওয়া তথ্যগত অসামঞ্জস্য ছিল "অস্থায়ী প্রযুক্তিগত সমস্যা" এবং তা সংশোধনের কাজ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এপ্রিলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং জুনে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করে। তবে এরপরও উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
জুলাই মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে তিন সেনা নিহত হন। একই সময়ে ইরাকে একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় আরও এক মার্কিন সেনা প্রাণ হারান।
এরপর টানা ১৩ রাত ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং পাল্টা হামলা চালায় ইরান।
তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টানা তিন রাত ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি, যা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আশা তৈরি করেছে।
সূত্র: বিবিসি ।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন