যুক্তরাজ্যের সাফোক উপকূলে ভয়াবহ দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলতে থাকা এই আগুনে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে, যা প্রায় ২১০টি ফুটবল মাঠের সমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিনরাত কাজ করছেন ১২০ জনের বেশি দমকলকর্মী।
বুধবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে ডানউইচ হিথ এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাস ও দীর্ঘদিনের খরার কারণে আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটিকে ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ ঘোষণা করে সাফোক ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস।
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, বাতাসের দিক বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় আগুন কোন দিকে ছড়াবে তা আগাম বলা কঠিন হয়ে পড়েছে। দুর্গম এলাকা এবং সীমিত প্রবেশপথের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
আগুনের ঝুঁকিতে আশপাশের আবাসিক এলাকা, খামারবাড়ি এবং একটি হলিডে ক্যারাভান পার্ক থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় একটি বিশ্রামকেন্দ্রে প্রায় ৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক স্থানীয় বাসিন্দাও নিজেদের বাড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আশ্রয় দিয়েছেন।
দাবানল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাইজওয়েল বি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে আগুন তাদের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তবে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে নির্মাণাধীন সাইজওয়েল সি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য অস্থায়ী আবাসনেরও প্রস্তাব দিয়েছে।
দাবানলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে ডানউইচ হিথ এবং পাশের আরএসপিবি মিন্সমেয়ার সংরক্ষিত এলাকার জীববৈচিত্র্যের।
এ অঞ্চলটি বিরল প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, আগুনে বহু প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত পরিবেশবিদ বলেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং স্থানীয় পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
পরিবেশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাফোকে ইতোমধ্যে খরা পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি জুলাই মাসে এলাকাটি স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের মাত্র ২ শতাংশ বৃষ্টি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং প্রবল বাতাস একসঙ্গে কাজ করায় দাবানল দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দমকল বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে কমিউনিটিজ সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেইনার আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত দমকলকর্মীদের সাহসিকতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও খরার কারণে যুক্তরাজ্যেও দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন