বাংলাদেশ

সিলেট নগরীতে ভবন নির্মাণে এখন থেকে লাগবে সিউকের অনুমোদন

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০২:৪৫

আবুল কাশেম রুমন: পরিকল্পিত নগরায়ন, সুশৃঙ্খল ভূমি ব্যবহার ও পরিবেশ সুরক্ষায় সিলেট মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় কার্যক্রম শুরু করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। সংস্থাটির পূর্বানুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ, ভবনের সম্প্রসারণ বা কোনো ধরনের পরিবর্তন করা যাবে না বলে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিউকের আওতাধীন এলাকায় ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন এবং জলাধার খনন বা পুনঃখননের জন্য সংশ্লিষ্টদের সিউকের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে।

সিউকের কার্যালয় ২৯/এ ফরচুন গার্ডেন, বঙ্গবীর রোড, নাইওরপুল, সিলেটে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভবন নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ইমারত নির্মাণ আইন-১৯৫২, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-২০২০ অনুসরণ করতে হবে।

এ জন্য সিউকের তালিকাভুক্ত স্থপতি, প্রকৌশলী বা নকশাকারকের মাধ্যমে ভূমি জরিপ, মাটি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় নকশা প্রণয়ন করে আবেদন জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০-এর ৫ ধারা অনুযায়ী সিউকের আওতাধীন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী সব ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে সিউকে নিবন্ধিত হতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুমোদন ছাড়া নির্মাণে ব্যবস্থা

সিউক জানিয়েছে, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। অনুমোদিত নকশার বাইরে কোনো ধরনের নির্মাণ বা পরিবর্তন করা যাবে না।

একই সঙ্গে অবৈধ দখল, জলাশয় ভরাট এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০২৩-এর ৫৪ ধারার উল্লেখ করে গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইন কার্যকর হওয়ার পর সিউকের অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া অনুমোদন অকার্যকর ও অননুমোদিত হিসেবে গণ্য হবে।

আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে সিউক।

নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিলেট মহানগরী ও সিউকের আওতাধীন এলাকার বাসিন্দাদের ভবন নির্মাণ, ভূমি ব্যবহার, জলাধার সংক্রান্ত কার্যক্রম বা সংশ্লিষ্ট কোনো উদ্যোগ নেওয়ার আগে সিউক কার্যালয়ে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও অনুমোদন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর ফলে সিলেট নগরীতে নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা বিদ্যমান ভবনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সিউকের অনুমোদন এখন গুরুত্বপূর্ণ বাধ্যবাধকতা হিসেবে কার্যকর হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন