বাংলাদেশ

সিলেটে বৃদ্ধ দম্পতি ও গৃহকর্মী হত্যায় রংমিস্ত্রি আটক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ০৩:০১

নিহত দম্পতি

সিলেট নগরের রায়নগর এলাকায় বাড়ির মালিক বৃদ্ধ দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মী হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাড়ির গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের প্রায় ২০ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের জেরে বিরোধের একপর্যায়ে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালেই রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনার (১৮) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি রায়নগর এলাকা থেকে বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়।

বাবুল রায়নগরের রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়া কলোনির মৃত নূর মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি। পাশাপাশি পার্টটাইম কসাই হিসেবেও কাজ করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম সাংবাদিকদের জানান, বাবুল ওই বাসায় রং করার কাজ করতেন। সেই সূত্রে বাসাটিতে কর্মরত গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে বাবুল ওই বাসায় প্রবেশ করেন। তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেন। পরে তারা একটি কক্ষে গেলে শারীরিক সম্পর্কের বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে বাবুল সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাহমিনার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও একই ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে সুরাইয়ার চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার সেখানে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, তিনজনকে হত্যার পর বাবুল বাসার বারান্দা দিয়ে বেরিয়ে যান। পরে বাসার পাশের একটি খালি জায়গায় ছুরিটি ফেলে তিনি রায়নগর এলাকাতেই অবস্থান করছিলেন।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুলকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাসার পাশের খালি জায়গায় হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশ কমিশনারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে রায়নগরের নিজ বাসায় বসবাস করতেন। তাদের চার সন্তানের মধ্যে দুজন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এবং অপর দুজন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।

তবে পুলিশের প্রাথমিক বর্ণনায় হত্যার কারণ হিসেবে প্রেমের সম্পর্ক ও শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের কথা বলা হলেও তদন্তের এই পর্যায়ে ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রশ্নও সামনে এসেছে। পুলিশের বর্ণিত সময়, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র, ঘটনার পর সন্দেহভাজনের একই এলাকায় অবস্থান এবং জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য তদন্তে আরও যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তদন্তকারীদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য, বাবুলের সঙ্গে নিহতদের সম্পর্ক, বাসায় তার প্রবেশের প্রকৃত কারণ, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং ঘটনাস্থলের আলামতের সঙ্গে তার বক্তব্যের সামঞ্জস্য যাচাই করা।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য যাচাই-বাছাই ও আলামত বিশ্লেষণের পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন