বাংলাদেশ

দুই বছর পর প্রকাশ্যে বক্তব্য শেখ হাসিনার, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা

দেশে ফিরে কারাবরণ বা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হলেও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে তিনি সরে আসবেন না বলে মন্তব্য করেন

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ০১:৫০

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দুই বছর নির্বাসিত জীবনের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তবে দেশে ফিরে কারাবরণ বা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হলেও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে তিনি সরে আসবেন না বলে মন্তব্য করেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও সংযোগে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, "আমাকে কারাগারে পাঠানো হতে পারে, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। কিন্তু ভয় আমাকে দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারবে না। আমার প্রিয় দেশ ও দেশের মানুষ কষ্টে থাকলে আমি দূরে থাকতে পারি না।"

তিনি জানান, দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। তবে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান তিনি।

বক্তব্যে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, তার মা ভারতে নিরাপদে রয়েছেন এবং ভারত সরকার তাকে রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদার সমপর্যায়ের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দিচ্ছে। এ জন্য তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি বক্তব্য দেন সাবেক বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। এছাড়া শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও বক্তব্য রাখেন। তারা আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে অবাধ রাজনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এটি একটি স্বাধীন ফোরামের আয়োজন এবং এতে ব্যক্ত হওয়া মতামতের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে। তবে শেখ হাসিনা ওই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, দেশের জনগণই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য তিনি রাজনীতি চালিয়ে যাবেন।

এদিকে বর্তমান সরকার জানিয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা হবে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন