বিশ্ব

ভারতে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকের পর মুক্তি

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ ০৩:৩৯

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা খাতের জবাবদিহি দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ দলের শীর্ষ নেতাদের আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের উদ্দেশ্যে মিছিল শুরু করেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের মূল দাবি ছিল সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা বলয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করে। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

পরে রাহুল গান্ধীকে দিল্লির ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাকে মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হয়। রাতে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর উভয় নেতাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

মুক্তির পর রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভ শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, "শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায় মানে দেশের প্রতিটি পরিবারের ওপর অন্যায়। জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।"

এদিকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে কংগ্রেস জানিয়েছে, সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সরকার কোনো আশ্বাস না দেওয়ায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে জিতেন্দ্র সিং দাবি করেন, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে কংগ্রেস প্রথমে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছিল। পরে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও যুক্ত করে।

এর আগে সোমবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে ১১৮ জন পুলিশ সদস্য এবং অন্তত ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হন। ওই ঘটনায় ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে জবাবদিহির দাবি জোরালো করছে, অন্যদিকে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপকে যৌক্তিক বলে দাবি করছে।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য হিন্দু, এএনআই।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন