বিশ্ব

দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভে সংঘর্ষে আহত ১১৮ পুলিশ; আটক ৭০

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ ১৫:৩৪

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে আয়োজিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। 

সোমবার (২০ জুলাই) জন্তর মন্তর থেকে ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক যুব আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে পার্লামেন্ট অধিবেশন চলাকালে নিরাপত্তার অজুহাতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের অগ্রযাত্রায় বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। 

দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ এবং সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালায়। এসব ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। 

অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টির অভিযোগ, পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তাদের দাবি, লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশও। 

কী এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’?

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party-CJP) মূলত চলতি বছরের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া একটি ব্যঙ্গধর্মী উদ্যোগ, যা পরে যুব আন্দোলনে রূপ নেয়। ভারতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই সংগঠনটির উত্থান। বর্তমানে শিক্ষা সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ তাদের অন্যতম প্রধান দাবি। 

সরকারের সঙ্গে আলোচনা

সংঘর্ষের মধ্যেই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ককরোচ জনতা পার্টির দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সংগঠনটির দাবিপত্র গ্রহণ করা হয় এবং বিষয়গুলো সরকার বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বা অন্যান্য দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। 

আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, সহিংসতা এড়াতে আপাতত পার্লামেন্টমুখী মিছিল না করলেও জন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অনশনরত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। 

 

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন