ঋতু পরিবর্তন আর বর্ষার এই মৌসুমে সর্দি-কাশি ও ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। এই মৌসুমি রোগবালাই এড়াতে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে আয়ুর্বেদ মসলা চা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চায়ে থাকা নানা ওষুধি উপাদান শরীরে শক্তিশালী প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তোলে। আয়ুর্বেদিক তত্ত্ব অনুযায়ী, মসলা চায়ে ব্যবহৃত উপাদান শরীরকে সতেজ ও প্রাণবন্ত করে এবং মনকে রাখে প্রফুল্ল। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি দূর করতে এবং একটানা কাজের জন্য মনঃসংযোগ বাড়াতেও এই চা সহায়তা করে।
কেন উপকারী এই চা
মসলা চায়ে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর উপাদান পাওয়া যায়। এতে অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে এবং ক্যালোরি খুব কম। মসলা চায়ে রয়েছে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যারোটিন ও জরুরি মিনারেল।
লবঙ্গযুক্ত এই চা সাইনাস থেকে মুক্তি দিতে পারে। এতে থাকা ভিটামিন ই এবং ভিটামিন কে শরীরকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে বাঁচায় এবং জ্বর নিরাময়েও দারুণ কার্যকর।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পানকারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি ২০-৩০% কম। চায়ে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড রক্তনালী সুস্থ রাখে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমায়।
এছাড়া আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী এই চা নিয়মিত পান করলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে, নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং বিষণ্নতা ও অবসাদ কমে।
যেসব উপকরণ লাগবে
এলাচ ২টি, ছোট দারুচিনি ১টি, লবঙ্গ ২টি, গোল কালো মরিচ ২টি, গোল সাদা মরিচ ২টি, আদা ছোট ১ টুকরো, তেজপাতা ৪টি, লাল চা লিকার আধা চা চামচ, পুদিনা পাতা ৩টি, তুলসি পাতা ৩টি এবং মধু আধা চা চামচ।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে একটি পাত্রে এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ ও গোলমরিচ পিষে নিন। আরেকটি পাত্রে আদা পিষে পেস্ট তৈরি করুন। এবার চা তৈরির পাত্রে চায়ের লিকার বাদে সব উপকরণ ও পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে চুলায় বসান। তেজপাতাগুলো ছিঁড়ে দিন।
৫ থেকে ৭ মিনিট অপেক্ষা করুন—লক্ষ্য করবেন লিকার ছাড়াই পানি হালকা লাল হয়ে গেছে। এই সময়ে আধা চা চামচ লাল লিকার যোগ করুন এবং মাঝারি আঁচে আরও ১ মিনিট রেখে নামিয়ে ফেলুন। কাপে পুদিনা ও তুলসি পাতা দিয়ে মধু মিশিয়ে পরিবেশন করুন।
বিশেষ পরামর্শ
উচ্চ তাপমাত্রায় ভেষজ উপাদানের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই সবসময় মাঝারি আঁচে এই চা তৈরি করুন। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পান করা উচিত।
লাইফস্টাইল থেকে আরো পড়ুন