ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে চার গোলের দুর্দান্ত জয়ের পর প্রত্যাশার পারদ ছিল তুঙ্গে। তবে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। ঘানার কঠিন রক্ষণভাগ ভেদ করতে ব্যর্থ হয়ে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে থমাস টুখেলের দলকে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইংল্যান্ডের দখলে। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে ৭৯ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রেখেছিল থ্রি লায়ন্সরা। কিন্তু আধিপত্যকে গোলে রূপ দিতে না পারায় হতাশা নিয়েই শেষ করতে হয় ম্যাচ।
ঘানা শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেছে। কার্লোস কুইরোজের শিষ্যরা পাঁচ ডিফেন্ডার ও ঘন মিডফিল্ড ব্লক গড়ে ইংল্যান্ডের আক্রমণের পথ প্রায় বন্ধ করে দেয়। সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।
ম্যাচজুড়ে ইংল্যান্ড বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে সফল হতে পারেননি হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যামরা। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে কেইনের একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় জয় থেকে বঞ্চিত হয় ইংলিশরা।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন বলেন, “আমরা অবশ্যই জয় চেয়েছিলাম। কিন্তু ঘানা খুবই সংগঠিত ছিল এবং নিচু ব্লকে দুর্দান্তভাবে রক্ষণ করেছে। এমন ম্যাচে অনেক সময় একটি দ্রুত গোল পুরো চিত্র বদলে দেয়। সেটা আমরা পাইনি।”
ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “ঘানা প্রথম ম্যাচের চেয়েও বেশি রক্ষণাত্মক ছিল। আমরা ধৈর্য ধরে সুযোগ তৈরি করেছি, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার পাইনি। শেষ দিকে কয়েকটি বড় সুযোগও নষ্ট হয়েছে।”
বিবিসির বিশ্লেষণে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার বলেন, “এটি কোনো বিপর্যয় নয়, তবে বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার একটি ম্যাচ। ইংল্যান্ড ধীরগতির ছিল এবং আক্রমণে যথেষ্ট সাহস দেখাতে পারেনি।”
অন্যদিকে সাবেক ডিফেন্ডার মাইকা রিচার্ডসের মতে, “ইংল্যান্ড খুব বেশি নিরাপদ পাস খেলেছে। এমন নিচু ব্লকের বিপক্ষে আরও ঝুঁকি নিয়ে খেলতে হয়।”
ম্যাচে একটি বিতর্কিত মুহূর্তও তৈরি হয়। দ্বিতীয়ার্ধে ঘানার প্রিন্স আদুর ওপর ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার এজরি কনসার ট্যাকলকে অনেক বিশ্লেষক পেনাল্টি বলে মনে করলেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি। সাবেক ফিফা সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যানের মতে, “এটি পেনাল্টি হতে পারত।”
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘এল’-এ দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে ঘানা।
এখন শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে ইংল্যান্ডকে অপেক্ষা করতে হবে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। শনিবার পানামার বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয় পেলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল থাকবে টুখেল শিষ্যদের।
ক্রীড়াঙ্গন থেকে আরো পড়ুন