বিশ্ব

পাকিস্তানের গণহত্যার ইতিহাস জাতিসংঘে তুলে ভারতের তীব্র সমালোচনা

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ ১১:৩০

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের অতীত গণহত্যা ও সামরিক দমন-পীড়নের ইতিহাস তুলে ধরে তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। বিশেষ করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর পরিচালিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় নয়াদিল্লি।

 

স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা’ শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বতানেনি।

 

তিনি বলেন, “যে দেশ নিজের জনগণের ওপর বোমা হামলা চালায় এবং ইতিহাসজুড়ে পদ্ধতিগত গণহত্যা করেছে, তাদের কাছ থেকে মানবাধিকারের ভাষণ শোনা বিস্ময়কর।”

 

ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে যে অভিযান চালায়, তা ছিল ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ। তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় পরিকল্পিত ধর্ষণ, হত্যা ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে লাখো মানুষের জীবন ধ্বংস করা হয়েছিল।

 

জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাব দিতেই ভারত এই প্রসঙ্গ তোলে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

 

বক্তব্যে আফগানিস্তানেও পাকিস্তানের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ভারত। হরিশ পর্বতানেনি দাবি করেন, চলতি বছরের মার্চে রমজান মাসে আফগানিস্তানের কাবুলে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় শতাধিক বেসামরিক মানুষ হতাহত হন।

 

তিনি বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় শত শত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী সহিংসতার কারণে হাজার হাজার আফগান নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

 

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, “অন্ধকারে নিরীহ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে বক্তৃতা দেওয়া পাকিস্তানের চরম ভণ্ডামি।”

 

তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট ও ব্যর্থতা আড়াল করতেই পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত উত্তেজনা, সহিংসতা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার আশ্রয় নিয়ে আসছে।

 

এদিকে ভারতের এই বক্তব্যের পর জাতিসংঘে নতুন করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও ১৯৭১ সালের গণহত্যা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন