দুই কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত তিন কিশোরকে কারাদণ্ড না দেওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের বিচারব্যবস্থা। ঘটনাটিকে “ভয়াবহ” ও “বিবেক নাড়া দেওয়া” বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার।
ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারের ফোর্ডিংব্রিজ এলাকায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পৃথক দুই ঘটনায় দুই কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে তিন কিশোরকে দোষী সাব্যস্ত করে সাউদাম্পটন ক্রাউন কোর্ট। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন বর্তমানে ১৫ বছর বয়সী এবং একজনের বয়স ১৪।
আদালতে প্রমাণিত হয়, অভিযুক্তরা ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে পরে সেগুলোর কিছু অংশ অনলাইনেও ছড়িয়ে দেয়। তবে বিচারক নিকোলাস রোল্যান্ড তাদের কারাগারে না পাঠিয়ে ‘ইয়ুথ রিহ্যাবিলিটেশন অর্ডার’ দেন, যা মূলত কমিউনিটি ভিত্তিক শাস্তি।
এই রায়ের পর যুক্তরাজ্যজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী এক কিশোরী বিবিসিকে বলেন, “এ রায় যেন আমার মুখে পাথর ছুড়ে মারা হয়েছে। মনে হয়েছে, আইন তাদের কাজকে খুব গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখেনি।”
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সামাজিক মাধ্যমে বলেন, “এই দুই কিশোরী অকল্পনীয় পরিস্থিতিতে অসাধারণ সাহস দেখিয়েছে। এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা এবং সাজা পুনর্বিবেচনা করা ঠিক সিদ্ধান্ত।”
ব্রিটিশ অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, সাজা অত্যন্ত লঘু হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে মামলাটি আপিল আদালতে পাঠানো হতে পারে।
এদিকে সাবেক মন্ত্রী জেস ফিলিপস, কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও মানবাধিকারকর্মীরা রায়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় কারাদণ্ড না দেওয়া সমাজে ভুল বার্তা দিচ্ছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোরদের সহিংসতা, নারী বিদ্বেষ এবং অনলাইন সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র; বিবিসি।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন