বিশ্ব

ব্রিটেনে লেবার পার্টিতে সংকট

উপনির্বাচনে লড়ার অনুমতি পেলেন স্টারমারের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ ০৪:১৬

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির চলমান নেতৃত্ব সংকটের মধ্যেই বড় রাজনৈতিক অগ্রগতি পেয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি (এনইসি) তাকে মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত হলে ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন তিনি।

শুক্রবার ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, লেবার এমপি জশ সিমন্স পদত্যাগ করায় উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনটি শূন্য হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, আগামী ১৮ জুন উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এর আগে জানুয়ারিতে একটি উপনির্বাচনে অংশ নিতে চাইলেও এনইসি বার্নহ্যামকে অনুমতি দেয়নি। তবে এবার রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাওয়ায় তাকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে দলের ভেতরে অসন্তোষ তীব্র আকার নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ জন লেবার এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। পাশাপাশি পাঁচজন মন্ত্রীও পদত্যাগ করেছেন।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ শুরু হয়নি, তবে দলীয় নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন পেলে যে কেউ নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এক বিবৃতিতে বলেন, “গ্রেটার ম্যানচেস্টারে আমরা যে পরিবর্তন এনেছি, সেটি পুরো যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই। মানুষ যেন রাজনীতির ওপর আবার আস্থা ফিরে পায়, সেটাই আমার লক্ষ্য।”

তবে মেকারফিল্ড ঐতিহ্যগতভাবে লেবারের শক্ত ঘাঁটি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে রিফর্ম ইউকের প্রভাব বাড়ছে। ফলে নির্বাচনটি বার্নহ্যামের জন্য সহজ নাও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংকেও সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেও সরাসরি নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠরা দাবি করছেন, প্রয়োজনীয় এমপি সমর্থন তার রয়েছে।

অন্যদিকে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারও ভবিষ্যতে নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এখনো পদ ছাড়ার চাপ প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছেন। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন