ছবি: বিবিসি
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের ভরাডুবির পর দলটির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের ঘোষণা দেননি।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি স্টারমারের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর কথা উল্লেখ করেন। যদিও সরাসরি নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি, তবুও তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ আনতে প্রয়োজনীয় ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন তার পক্ষে রয়েছে। তবে দলটির ভেতরে এখনো স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাচ্ছে। একদিকে কিছু এমপি স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছেন, অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন এই মুহূর্তে নেতৃত্ব সংকট দলকে আরও দুর্বল করে তুলবে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ জন লেবার এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অথবা নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে বলেছেন। অন্যদিকে ১৫০ জনের বেশি এমপি প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন দিয়েছেন অথবা বলেছেন, এখন নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় নয়।
গত কয়েকদিনে চারজন জুনিয়র মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া একাধিক মন্ত্রী ও উপদেষ্টা সরকারের ভেতর থেকেও স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। সপ্তাহের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদও প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন।
এদিকে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামকেও সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। লেবার এমপি জশ সিমন্স সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে বার্নহ্যাম উপনির্বাচনের মাধ্যমে পার্লামেন্টে আসতে পারেন। ডাউনিং স্ট্রিটও ইঙ্গিত দিয়েছে, তার প্রার্থিতা ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে না।
সংকটের মধ্যেই বুধবার পার্লামেন্টে রাজা তৃতীয় চার্লস সরকারের নতুন আইন প্রণয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। কিংস স্পিচে ডিজিটাল আইডি চালু, ব্রিটিশ স্টিল জাতীয়করণ, এনএইচএস সংস্কার এবং পুলিশ ব্যবস্থায় পরিবর্তনসহ ৩৭টি বিলের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়।
স্টারমার অবশ্য এখনো পদ ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি। তিনি দলীয় এমপি ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, নেতৃত্ব নির্বাচন শুরু হলে সরকার ও দল “বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে যাবে”।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনই বর্তমান সংকটের মূল কারণ। নির্বাচনে লেবার প্রায় ১ হাজার ৫০০ কাউন্সিলর হারিয়েছে। ওয়েলসে ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলটির ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। তবে পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী কয়েকদিন ব্রিটিশ রাজনীতিতে আরও নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন