ইরান যুদ্ধের প্রভাব
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:৫০
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বড় ধাক্কার মুখে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি কমার ঝুঁকিতে রয়েছে যুক্তরাজ্য।
আইএমএফের সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি কমে ০.৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এর আগে জানুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি ১.৩ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি, সুদের হার কমানোর গতি ধীর হওয়া এবং উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব—এসব কারণে প্রবৃদ্ধির এই নিম্নমুখী সংশোধন করা হয়েছে।
আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, এমনকি বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় যুক্তরাজ্য দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বেশি অনুভব করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সরাসরি দেশটির অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।
তবে সংস্থাটি আশা করছে, আগামী বছর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে এবং ইউরোপের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে আবারও দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে পারে যুক্তরাজ্য, যদিও প্রবৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম থাকবে।
এদিকে মূল্যস্ফীতিও যুক্তরাজ্যে তুলনামূলক বেশি থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। চলতি বছরে তা ৩.২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে এবং সাময়িকভাবে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে সরকারকে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে।
আইএমএফ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় অর্থনীতি আবার মন্দার দিকে না যায়।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন