ইরান যুদ্ধের ধাক্কা
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:৪৭
ইরানের একটি স্কুলে বোমা হামলার পর ধ্বংসস্তূপ
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটির বেশি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
সংস্থাটির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি, খাদ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি—এই তিনটি খাতে একযোগে সংকট তৈরি হয়েছে, যা বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউএনডিপি প্রধান ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, “এই ধরনের সংঘাত উন্নয়নকে পেছনে ঠেলে দেয়। যুদ্ধ থামলেও এর প্রভাব দীর্ঘদিন থেকে যায়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—যারা দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তারাই আবার এতে ফিরে যাচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে যদি তেল ও গ্যাস সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয় এবং উচ্চ মূল্য অব্যাহত থাকে, তাহলে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী, দৈনিক ৮.৩০ ডলারের নিচে আয়কে দারিদ্র্য হিসেবে ধরা হয়েছে।
এই সম্ভাব্য দারিদ্র্য বৃদ্ধির বড় অংশ ঘটবে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে—বিশেষ করে আফ্রিকা, এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-ও সতর্ক করেছে, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
ওয়াশিংটনে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকের আগে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ইউএনডিপি প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের জরুরি নগদ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে দরিদ্র দেশগুলোকে সাময়িকভাবে সহায়তা করা যায়।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকিনির্ভর সমাধান কার্যকর হবে না। বরং লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা ও উন্নয়ন বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে যখন উন্নত দেশগুলো বৈদেশিক সাহায্য কমিয়ে দিচ্ছে। এতে বৈশ্বিক দারিদ্র্য মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ শুধু আঞ্চলিক সংঘাত নয়—এটি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবিক সংকটের বড় কারণ হয়ে উঠছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন