নতুন বর্ডার সিস্টেমে বিশৃঙ্খলা
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৫৫
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ডিজিটাল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর পর ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। দীর্ঘ লাইনে আটকে থেকে ফ্লাইট মিস, অতিরিক্ত খরচ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতিকে ‘দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন অনেকেই।
রোববার ইতালির মিলান লিনাতে বিমানবন্দর-এ ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ লাইনে আটকে পড়ে অন্তত ১০০ জন যাত্রী ইজি জেট-এর ম্যানচেস্টারগামী ফ্লাইট মিস করেন।
নতুন ইইউ এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম (EES) চালুর ফলে যাত্রীদের বায়োমেট্রিক তথ্য—মুখের স্ক্যান ও আঙুলের ছাপ—নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
যাত্রী ক্যারল বুন জানান, পুরো অভিজ্ঞতা ছিল “ভয়াবহ”। তিনি বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, কেউ অজ্ঞান হয়ে গেছেন।
আরেক যাত্রী ম্যাক্স হিউম জানান, যুক্তরাজ্যে ফিরতে তাকে প্রায় ১,৮০০ পাউন্ড খরচ করতে হয়েছে। তার ভাষায়, “পুরো পরিস্থিতি ছিল বিশৃঙ্খল।”
ইউরোপজুড়ে এই নতুন সিস্টেম চালুর পর বিমানবন্দরগুলোতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়েও বোর্ডিং গেটে যাত্রী পৌঁছাতে পারছেন না।
যাত্রীদের অভিযোগ, ফ্লাইট ছাড়ার আগে গেট নম্বর দেরিতে জানানো হয়েছে, ফলে আগে পৌঁছেও কোনো লাভ হয়নি। অনেকেই দাবি করেন, ফ্লাইট মিস করার পর এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি।
তবে ইজি জেট জানিয়েছে, তারা আগেই যাত্রীদের বেশি সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দিয়েছিল এবং পরিস্থিতির জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে এই বিলম্ব তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলেও জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সিস্টেম চালুর শুরুতেই এমন সমস্যাকে ‘প্রাথমিক জটিলতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রীষ্মকালীন ব্যস্ত মৌসুমের আগে দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপত্তা জোরদারের জন্য এই ব্যবস্থা চালু হলেও বাস্তবায়নে সমন্বয়ের অভাব যাত্রীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন