বাংলাদেশ

দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার: আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ১১৪

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৩

দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম রোগ। আক্রান্ত শিশুদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। প্রতিদিন জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে শত শত শিশু ভর্তি হচ্ছে, ফলে অনেক হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত দেশে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জন সম্ভাব্য হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসা শেষে ২ হাজার ৬৫৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

একই সময়ে মোট ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন নিশ্চিতভাবে হামজনিত কারণে এবং বাকি ৯৮ জন জটিলতায় মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৮৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং মারা গেছেন ৬ জন।

কোন এলাকায় বেশি সংক্রমণ

বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, আক্রান্তের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে সংক্রমণ ছড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেশের ৫৬টি জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কথা জানানো হয়েছে। কক্সবাজার, বরগুনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি এলাকায় বিশেষ টিকা কার্যক্রম চালু হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে, এমনকি যারা আগে টিকা নিয়েছে তারাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে এবং মে মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

অভিভাবকদের জন্য সতর্কতা

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে। তবে শিশুর জ্বর বা অসুস্থতা থাকলে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দেওয়া হচ্ছে যাতে জটিলতা কমে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন