প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৫০
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আক্রমণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইরানের শত বছরের প্রাচীন একটি গবেষণাগার
ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে।
এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধে দুই পক্ষের ‘জয়-পরাজয়’ ধারণা সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাফল্য পরিমাপ করছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের মাধ্যমে। বিপরীতে ইরানের কাছে টিকে থাকাই বড় অর্জন। ফলে সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা দেশটির ভেতরে শক্তিশালী রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ বলছে, এসব হামলা কৌশলগত সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। বরং এতে ইরানের অভ্যন্তরে কট্টর অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বিশ্ব অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দিতে গেলে দেশটির অর্থনীতি ও অবকাঠামো বড় পরিসরে ধ্বংস করতে হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে।
ইতিহাস বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সমাজে প্রতিরোধের যে ঐতিহাসিক সংস্কৃতি রয়েছে, তা এই যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে সামরিক আঘাত দিয়েই দ্রুত ফল পাওয়ার আশা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই ধরনের হুমকিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের পূর্বাভাস হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের গতিপথ এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যেকোনো সময় তা আরও বড় আকার নিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন