যুদ্ধ মানেই ধ্বংস
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে ‘নরক’ নামিয়ে আনার হুমকি দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহে দেখা গেছে, দক্ষিণ ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ওই বিমানে থাকা দুই সদস্যের একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অপর একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই পৃথকভাবে অনুসন্ধান অভিযান চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরান যদি সমঝোতায় না আসে বা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে না দেয়, তাহলে দেশটির ওপর ভয়াবহ আঘাত নেমে আসবে। এর জবাবে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব পাল্টা সতর্ক করে জানায়, সংঘাত আরও বাড়লে পুরো অঞ্চলই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য ‘নরকে’ পরিণত হবে।
এদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার ঘটনায় একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে ঘিরেও পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। ইরানের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের ওই সেনাকে জীবিত খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে যেকোনো ছোট ঘটনা বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন