বিশ্ব

বাণিজ্যের আড়ালে সামরিক সহায়তা

চীনের জাহাজে ইরানে পৌঁছাচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপকরণ

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:০৯

গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক চালানের আড়ালে চীন থেকে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল পাঠানো হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন থেকে আসা একাধিক জাহাজ ইরানের বন্দরে পৌঁছেছে। এসব জাহাজে এমন রাসায়নিক বহন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা কঠিন জ্বালানিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কাঁচামালের পরিমাণ এতটাই বড় যে তা দিয়ে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি সম্ভব। ফলে এটি শুধু সাধারণ বাণিজ্য নয়, বরং সরাসরি যুদ্ধ সক্ষমতা ধরে রাখার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং কোম্পানির জাহাজগুলো বিভিন্ন কৌশলে নজরদারি এড়িয়ে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিচয় গোপন রাখা, গন্তব্য পরিবর্তন করা এবং ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখা।

গোয়েন্দা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের কিছু সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো কার্যকর রয়েছে। এই অবস্থায় নতুন করে কাঁচামাল আমদানি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ দ্রুত পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সরবরাহের ফলে ইরান অন্তত আরও কিছুদিন নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে। এমনকি নতুন চালান দিয়ে কয়েকশ’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

চীনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও দেশটি সরাসরি সামরিক সহায়তার কথা অস্বীকার করে, তবে বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে এ ধরনের কৌশলগত সহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে চলমান সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বৈশ্বিক শক্তির কৌশলগত প্রতিযোগিতা, যা ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন