বিশ্ব

কুয়েতে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২৭

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে কুয়েতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় যুক্তরাজ্য সরাসরি প্রতিরক্ষা সহায়তায় এগিয়ে আসছে।

শুক্রবার কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার পরপরই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমেদ আল সাবাহর সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেন। ওই আলোচনার পর কুয়েতে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন এবং সামরিক সহায়তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্রিটিশ সূত্রগুলো বলছে, কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ‘র‌্যাপিড সেন্ট্রি’ ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।

হামলার ঘটনায় তেল শোধনাগার, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পানি শোধনাগার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এতে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, কুয়েতের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাজ্য তাদের মিত্রদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এদিকে একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনাতেও হামলার চেষ্টা চালানো হয়। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে সেখানে আগুন ধরে যায়। জরুরি সেবা দল দ্রুত কাজ শুরু করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এখন শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে তা ছড়িয়ে পড়ছে। জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কুয়েতে ব্রিটিশ সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন