প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:২১
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, যুদ্ধের মতো গুরুতর বিষয়ে প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া দায়িত্বশীল নেতৃত্বের আচরণ নয়।
দক্ষিণ কোরিয়া সফরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এটা কোনো প্রদর্শনী নয়। এখানে যুদ্ধ, শান্তি আর মানুষের জীবনের প্রশ্ন জড়িত। তাই সিরিয়াস হতে হলে প্রতিদিন নিজের কথার উল্টো কথা বলা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন কথা বলার প্রয়োজন নেই। কখনও কখনও চুপ থেকে পরিস্থিতিকে শান্ত হতে দেওয়াই ভালো।”
ম্যাক্রোঁর এই বক্তব্যকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা হিসেবে দেখছেন। কারণ, ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার বক্তব্যে বারবার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে—কখনো যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত, আবার কখনো নতুন করে হামলার হুমকি।
ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিলেও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করে বলেন, এই সামরিক পদক্ষেপগুলো অন্যদের নেওয়া সিদ্ধান্ত, এতে ফ্রান্সের সরাসরি অংশগ্রহণ নেই।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র সামরিক আঘাত দিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক তদারকি ও দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক উদ্যোগ।
এদিকে সামরিক জোট নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, যেকোনো জোটের মূল শক্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস, আর সেই বিশ্বাস দুর্বল হলে পুরো কাঠামোই ঝুঁকির মুখে পড়ে।
অন্যদিকে ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, এসব মন্তব্য অশোভন এবং এর জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ ঘিরে শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় ধরনের বিভাজন তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন