বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজধানী তেহরানের কাছের কারাজ শহরে একটি নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে আঘাত হানার পর সেখানে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের এই হামলায় সেতুর মাঝের বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এতে অন্তত কয়েকজন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। সেতুটি এখনও নির্মাণাধীন থাকলেও এটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
হামলার পরপরই আগুন, ধোঁয়া এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। জরুরি সেবা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
একই দিনে ইসফাহান অঞ্চলের একটি সামরিক স্থাপনার কাছেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণকৃত দৃশ্যে একাধিক বিস্ফোরণের পর দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। এতে সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া বৃহস্পতিবারের হামলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্দর এলাকা, গবেষণা কেন্দ্র ও শ্রমিকদের কর্মস্থলেও আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এতে আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে ইরান আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছে, হাসপাতাল ও চিকিৎসা স্থাপনায় হামলা মানবতাবিরোধী এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরান দ্রুত সমঝোতায় না এলে সামনে আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।
এর জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো আক্রমণের জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৃহস্পতিবারের এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন