প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:০১
পেট্রোল পাম্পে চলছে অভিযান
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) রাত থেকে এ কর্মসূচি কার্যকর হয়, ফলে পুরো বিভাগজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
পাম্প মালিকদের সংগঠনের বিভাগীয় নেতারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের নামে বারবার জরিমানা করা হচ্ছে, যা তারা ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, আগে থেকেই জ্বালানির ঘাটতির কারণে ব্যবসায়ীরা চাপে ছিলেন, এর মধ্যে ধারাবাহিক জরিমানা ও প্রশাসনিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে ধর্মঘটের প্রভাবে সড়ক পরিবহনেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকচালকরা প্রতিবাদ জানিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন। এতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ, জ্বালানি বিক্রিতে নানা শর্ত, ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, ডিপোতে অতিরিক্ত নজরদারি এবং প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার অসহযোগিতার কারণে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা যাচ্ছে না। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এর আগে বুধবার দুপুরে সিলেট নগরের একটি পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুদের অভিযোগে জরিমানা করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পাম্প মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে ওঠে এবং পরে জরুরি বৈঠক করে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সন্ধ্যার দিকে পাম্প মালিকদের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের এই কর্মসূচি বহাল রয়েছে।
হঠাৎ এই ধর্মঘটে সিলেটজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন