বাংলাদেশ

২ বিলিয়ন ডলার ঋণের খোঁজে বাংলাদেশ সরকার

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬ ০২:০৪

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি নিশ্চিত করতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি অর্থায়নের সন্ধান করছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এই সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও বহুপক্ষীয় অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে সরকারের আলোচনা শুরু হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে এই তহবিল প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।

সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্ব ব্যাংক, ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এসব সংস্থা থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বিদ্যমান কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও কয়েকশ কোটি ডলার পাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রুত তহবিল ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে অনুরোধ জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন উপদেষ্টা।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় জ্বালানি পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বড় চাপের মুখে পড়েছে।

সরকার জানিয়েছে, জ্বালানির অর্থপ্রবাহ কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানির আন্তর্জাতিক দাম বাড়লেও তা সরাসরি ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হবে বলে সরকার মনে করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব থেকে বাংলাদেশ সহজে মুক্ত থাকতে পারে না। তাই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে অর্থনীতি ও শিল্প খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন