ছবি: সং
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের জনগণ, স্বার্থ এবং মিত্রদের সুরক্ষার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তে ইরানের এমন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করা হবে, যেখান থেকে হরমুজ প্রণালী বা মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাজ্যের অবস্থানের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। শুরুতে সরাসরি হামলায় অংশ না নেওয়ার কথা বললেও এখন পরিস্থিতির চাপে লন্ডন আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলে দিতে সহযোগিতা করা তাদের জন্য সহজ হলেও তারা তা করছে না। তার এই মন্তব্যের পরই যুক্তরাজ্যের নতুন সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
ইরান এরই মধ্যে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হলে তা আগ্রাসনে সরাসরি অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। ফলে এই নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন