কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৯:১৩
কাতারের প্রধান গ্যাস স্থাপনায় হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি খাতে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দাম আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে সরবরাহ হয়। প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে সরবরাহ সংকট তীব্র হবে এবং দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের আঞ্চলিক সূচকগুলোর দাম ইতোমধ্যে দ্রুত বেড়েছে। কিছু বাজারে তেলের দাম ১৫০ ডলার অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় উল্লম্ফনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরোপেও গ্যাসের বাজারে তীব্র চাপ দেখা গেছে। ইউরোপীয় বেঞ্চমার্ক হিসেবে পরিচিত ডাচ গ্যাস সূচকের দাম একপর্যায়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সরবরাহ অনিশ্চয়তা এবং বিকল্প উৎসের সীমাবদ্ধতা এ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। এই কেন্দ্র থেকে এশিয়া ও ইউরোপসহ বহু দেশে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং দৈনন্দিন জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন