ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারা দেশের বাজারে মাংসের দাম যেন লাগামহীন হয়ে উঠেছে। গরুর মাংস, ব্রয়লার ও সোনালী মুরগি—সবকিছুর দামই এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় বিক্রেতারা নিজেদের মতো দাম নির্ধারণ করছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৭৮০ টাকায় পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ দোকানেই ৮৫০ টাকাই আদায় করা হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৩০ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগের তুলনায় বেড়েছে। আর সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সোনালী মুরগির, যা এখন ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, ঈদ এলেই ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেয়। চাহিদা বাড়লেই দাম বাড়ানো হয়, কিন্তু সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো কঠোর নজরদারি নেই। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে।
উত্তর মুগদার এক ক্রেতা জানান, ঈদের জন্য তাজা মাংস কিনতে এসে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের জন্য গরু আর মুরগি দুটোই দরকার, কিন্তু এখন কিনতে গিয়ে মনে হচ্ছে ঈদ যেন ধনীদের উৎসব হয়ে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা বলছেন, গরুর মাংস কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে মুরগির দিকে ঝুঁকছেন, কিন্তু সেখানেও স্বস্তি নেই। মালিবাগের এক গৃহিণী বলেন, “গরুর মাংস তো নাগালের বাইরে, এখন মুরগিও কেনা কঠিন হয়ে গেছে।”
ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, খামার পর্যায়ে পশু ও খাদ্যের দাম বেড়েছে বলেই খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে। তাদের দাবি, বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়। তবে ক্রেতাদের প্রশ্ন, যদি সত্যিই খরচ বাড়ে, তাহলে তার হিসাব ও নিয়ন্ত্রণ কোথায়?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবের কারণে ঈদের আগে প্রায় প্রতিবছরই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। কার্যকর মনিটরিং না থাকলে সামনে আরও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে উৎসবের আনন্দের বদলে বাজারের উচ্চমূল্য এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভই বাড়াচ্ছে। অনেকের কাছে ঈদের প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় চিন্তা এখন বাজারের ব্যাগ, উৎসব নয়।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন