বিশ্ব

যুক্তরাজ্যে কেন এত দ্রুত ছড়ালো মেনিনজাইটিসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব?

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৩:০৯

ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের কেন্ট এলাকায় হঠাৎ করেই মেনিনজাইটিস সংক্রমণের বিস্তার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগে ফেলেছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ছোট একটি এলাকায় প্রায় ২০ জন আক্রান্ত হওয়ায় ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক ও বিস্ফোরক পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

সাধারণত মেনিনজাইটিস একক বা বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায়। কখনও কখনও ছোট ক্লাস্টার তৈরি হলেও এত অল্প সময়ে এত বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বিরল। অতীতে বড় প্রাদুর্ভাব ঘটলেও তা বছরের পর বছর ধরে হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে নয়।

মেনিনজাইটিসের জীবাণু সাধারণত ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘসময় শারীরিক সংস্পর্শে ছড়ায় এবং হাম, করোনা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো দ্রুত সংক্রমণ ঘটায় না। ফলে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ এখনো পরিষ্কার নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি সম্ভাবনা সামনে এসেছে। প্রথমত, সংক্রমণ অস্বাভাবিক দ্রুত হারে ছড়িয়েছে। দ্বিতীয়ত, এই জীবাণুটি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে, ফলে আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে।

সম্ভাব্য উৎস হিসেবে নাইটক্লাব

প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ একই নাইটক্লাবে অবস্থান করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি অতিসংক্রমণ ঘটনা হতে পারে যেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ একসঙ্গে সংক্রমিত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ সেখানে শিক্ষার্থীরা কাছাকাছি অবস্থানে বসবাস করেন।

মেনিনজাইটিস সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া অনেক মানুষের নাকের ভেতরে থাকে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতি করে না। কেবল অল্প কিছু ক্ষেত্রে তা শরীরে প্রবেশ করে মারাত্মক সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

জীবাণুর ধরন ও আচরণ নিয়ে অনুসন্ধান

পরীক্ষায় জানা গেছে, এই প্রাদুর্ভাব গ্রুপ বি ধরনের মেনিনগোকক্কাল ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়েছে। তবে এই শ্রেণির মধ্যেও শতাধিক ভিন্ন ভিন্ন উপধরন রয়েছে, যাদের আচরণ ও মারাত্মকতা আলাদা।

গবেষকরা এখন রোগীদের নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখছেন জীবাণুটি জিনগতভাবে পরিবর্তিত হয়েছে কিনা বা আগের তুলনায় বেশি বিপজ্জনক হয়েছে কিনা।

জীবনযাপন ও পরিবেশের ভূমিকা

ধূমপান বা ভেপিং শ্বাসনালিকে দুর্বল করে ব্যাকটেরিয়ার শরীরে প্রবেশ সহজ করতে পারে। বন্ধুদের মধ্যে ভেপ বা পানীয় ভাগাভাগি করাও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে এসব আচরণ নতুন নয় এবং শুধু এগুলো দিয়েই এই অস্বাভাবিক বিস্তার ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।

কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ যেমন ফ্লু থাকলে কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া সহজে ছড়াতে পারে। আবার কারও শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

করোনাকালীন দীর্ঘ লকডাউনের কারণে তরুণদের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এটি পুরো দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

এখনও অজানা অনেক প্রশ্ন

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না সংক্রমণ প্রথম কোথা থেকে শুরু হয়েছে, কীভাবে এত দ্রুত বিস্তার ঘটেছে বা কেন একই বয়সী তরুণদের মধ্যে এত গুরুতর প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং দ্রুত কারণ শনাক্ত করা জরুরি, কারণ মেনিনজাইটিস খুব দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: বিবিসি।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন