বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব

বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়াতে পারে

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৩:১৪

ছবি : প্রতীকী

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটির আশঙ্কা, চলমান পরিস্থিতির কারণে নতুন করে ৪৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন।

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩১৮ মিলিয়ন মানুষ মারাত্মক খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, সংঘাত সরাসরি খাদ্য উৎপাদন অঞ্চলে না হলেও জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়, সার ও কৃষি উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বাড়ে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিও তেমন বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সংস্থার কর্মকর্তারা বলেছেন, পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আগে থেকেই সংকটে থাকা জনগোষ্ঠী নতুন করে খাদ্য সংকটে নিমজ্জিত হবে।

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা এবং লোহিত সাগর হয়ে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে জ্বালানি, সার ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল ও এশিয়ার কিছু দেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় খাদ্য সংকট ২১ শতাংশ, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৭ শতাংশ এবং এশিয়ার কিছু এলাকায় প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

সুদান ও সোমালিয়ার মতো সংকটাপন্ন দেশগুলোতে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে তহবিল সংকটের কারণে অনেক এলাকায় খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন