প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ ১৬:৪৩
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন এবং এখন এই সংঘাতের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ নেই— এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন গুরুতর ভুল হিসাব করেছিল। ফলে পুরো অঞ্চল এখন সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার আগুনে জ্বলছে।
সিনেটর মারফি বিশেষভাবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তার দাবি, ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অচল করার সক্ষমতা রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র তা গুরুত্ব দেয়নি। ইতোমধ্যে ড্রোন, স্পিডবোট ও সমুদ্র মাইনের কারণে প্রণালিটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক যুদ্ধে সস্তা কিন্তু কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ড্রোনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা ইরান দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করতে পারবে। এতে তেল স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু বারবার হামলার মুখে পড়তে পারে।
মারফির মতে, সংঘাত ইতোমধ্যে লেবানন, ইরাকসহ আশপাশের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইয়েমেন ও সিরিয়াও এতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত কমে আসার বিষয়টিও তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে তিনি যুদ্ধ শেষ করার সুস্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তার মতে, স্থল অভিযান হলে ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে, আর হঠাৎ পিছু হটলেও পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
যুদ্ধ বন্ধে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোনো জরুরি।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন